আর্থিক তছরুপে ফাঁসলেন ‘ভণ্ড সাধু’ অশোক খরাত, জেলবন্দি যৌন অপরাধীর হেফাজতে এবার ED!

ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে কারাবন্দি স্বঘোষিত ধর্মগুরু ও জ্যোতিষী অশোক খরাতের বিপদ আরও বাড়ল। এবার তার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের (মানি লন্ডারিং) তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ পিএমএলএ আদালতে খরাতকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। অপরাধলব্ধ অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।
আর্থিক প্রতারণার নতুন জাল
তদন্তে জানা গেছে, খরাত কেবল চারিত্রিক স্খলন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতিও চালিয়েছেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিজের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছ থেকে ৮.৭৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারওয়াড়া থানায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইডির ধারণা, আধ্যাত্মিকতার আড়ালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এই স্বঘোষিত সাধু।
তল্লাশিতে মিলল চাঞ্চল্যকর নথি
খরাতের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে ইডি কর্মকর্তারা চেক বই, রসিদ, কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক এবং বেশ কিছু পেন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বেনামি অ্যাকাউন্ট ও ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে মানি লন্ডারিংয়ের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। ইডির এই তৎপরতা চলমান সিট (SIT) তদন্তকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- একাধিক নারীর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন অশোক খরাত।
- নিজের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে প্রায় ৯ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
- অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থের সন্ধানে ইডি তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছে।
- তল্লাশিতে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি থেকে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত মিলেছে।
