ইছামতীর তীরে এবার বুলডোজার? টাকিতে ১৩টি বেআইনি হোটেল-রিসর্ট ভাঙার কড়া নোটিশ! – এবেলা

ইছামতীর তীরে এবার বুলডোজার? টাকিতে ১৩টি বেআইনি হোটেল-রিসর্ট ভাঙার কড়া নোটিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টাকি: পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য টাকিতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ইছামতী নদীর ধার ঘেঁষে গজিয়ে ওঠা একের পর এক অবৈধ হোটেল এবং গেস্ট হাউস অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল টাকি পুরসভা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষ এই বেআইনি নির্মাণগুলি সরিয়ে না ফেললে, পুরসভার তরফ থেকেই তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কেন এই চরম পদক্ষেপ?

  • নদী দখল করে রমরমা ব্যবসা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ইছামতীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই টাকিতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত কয়েক বছর ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইছামতীর চর দখল করে যত্রতত্র বিলাসবহুল গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁ বানিয়ে ফেলেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ সাম্রাজ্যের পেছনে খোদ পুরসভার কিছু জনপ্রতিনিধিরও প্রচ্ছন্ন মদত ছিল।
  • রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশ: সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর গত ১৫ মে রাজ্য প্রশাসন এবং পুরনিগম দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশিকা আসে প্রতিটি পুরসভায়।
  • ১৩টি বিল্ডিং চিহ্নিত: নবান্নের নির্দেশ পেয়েই নড়েচড়ে বসে টাকি প্রশাসন। ইছামতীর তীরের সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ইমারতের বিল্ডিং প্ল্যান-সহ বৈধ কাগজপত্র তলব করা হয়। যাচাই পর্ব শেষে দেখা যায়, অনেকেই নিয়ম মেনে নির্মাণ করেননি।

টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে জানান, “রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনেই আমরা সমস্ত হোটেলের কাছে বৈধ কাগজপত্র চেয়েছিলাম। যারা তা জমা দিতে পারেননি এবং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণকাজ করেছেন, এমন ১৩টি বিল্ডিংকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে ভাঙার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”

প্রশাসনের এই অভাবনীয় কড়া পদক্ষেপে বর্তমানে ইছামতীর তীরের অবৈধ হোটেল মালিকদের রাতের ঘুম উড়েছে। এখন দেখার, নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই বেআইনি ইমারতগুলির ওপর কবে থেকে বুলডোজার চালানো শুরু হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *