কল্যাণের নাগাল পেতে ব্যর্থ পুলিশ, তৃণমূল সাংসদকে কেন খুঁজছে সিআইডি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধায়কদের সই জাল করার চাঞ্চল্যকর মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে একের পর এক চেষ্টা সত্ত্বেও শ্রীরামপুরের এই প্রভাবশালী সাংসদের নাগাল পেতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। সবশেষ শুক্রবারও কলকাতার কালীঘাট থানার পুলিশ কল্যাণের বাড়িতে নোটিস পৌঁছে দিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছে। এই নিয়ে পরপর তিনবার সিআইডি নোটিস তৃণমূল সাংসদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হলো না।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বৃহস্পতিবার দুই দফায় কল্যাণের কলকাতার বাসভবনে সিআইডির নোটিস নিয়ে হাজির হয়েছিল কালীঘাট থানার পুলিশ। কিন্তু সাংসদ বাড়িতে না থাকায় সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়নি। শুক্রবার পুনরায় পুলিশকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গেলে জানা যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ফলে আবারও নোটিস না দিয়েই ফিরতে হয় পুলিশকে। বারবার এই তলবি নোটিস পৌঁছাতে না পারায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং কল্যাণের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
যে কারণে সিআইডির নজরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের অন্দরে যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছিল, সেই বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকের দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং বিধায়কদের সই জালের প্রক্রিয়ার সাথে কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়ে বিশদ তথ্য জানতে কল্যাণের বয়ান রেকর্ড করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আর এই কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে সিআইডি।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সই জালকাণ্ডের তদন্তে সিআইডি ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার সিআইডির তলব এড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে অভিষেক ও কুণালকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রে খবর, অভিষেকের বক্তব্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এই পরিস্থিতিতে দলের অন্যতম শীর্ষনেতা ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার এই চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কল্যাণের হাত পর্যন্ত সিআইডির নোটিস পৌঁছাতে এই বিলম্ব তদন্ত প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীরগতির করলেও, শাসকদলের অভ্যন্তরে এর একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাংসদের বক্তব্য রেকর্ডের পরই এই সই জাল মামলার পরবর্তী রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
