ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির দাপটে বিপাকে পুরনো গাড়ি, মিলবে না ইনস্যুরেন্সের টাকা! – এবেলা

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির দাপটে বিপাকে পুরনো গাড়ি, মিলবে না ইনস্যুরেন্সের টাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরিতে জোর কদমে চালু হয়েছে E20 পেট্রোল (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত তেল)। তবে এই নতুন জ্বালানি ঘিরে এখন চরম বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গাড়ি এবং বাইক মালিকদের মনে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগে তৈরি পুরনো যানবাহন, যা E20 জ্বালানির উপযোগী নয়, সেগুলির ইঞ্জিনের ক্ষতি হলে বিমা বা ইনস্যুরেন্সের টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিমা সংস্থার নির্দেশিকায় বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিমা বাতিলের আশঙ্কা ও পলিসির ফাঁস

সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, E20 পেট্রোল ব্যবহার করলেই যে গাড়ির ইনস্যুরেন্স পলিসি বাতিল হয়ে যাবে, এমনটা নয়। তবে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে যদি ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি হয়, তবে সেই ক্লেম বা ক্ষতিপূরণ পাওয়া মোটেও সহজ হবে না। সংস্থাটির স্পষ্ট বক্তব্য, যে গাড়ি যে জ্বালানির জন্য তৈরি নয়, তাতে সেই জ্বালানি ভরা হলে সেটিকে ‘অনুপযুক্ত ব্যবহার’ বা ‘অবহেলা’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এই যুক্তিতে বিমা সংস্থাগুলি ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দিতে পারে।

সাধারণ মোটর বিমা পলিসির নিয়ম অনুযায়ী, ‘কনসিকিউয়েনশিয়াল ড্যামেজ’ বা পরোক্ষ ও ক্রমাগত হওয়া ক্ষতি কভার করা হয় না। অর্থাৎ, ভুল বা অনুপযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় বা জং ধরে, তবে গ্রাহক কোনো টাকা পাবেন না। এমনকি ইঞ্জিনের বাড়তি সুরক্ষার জন্য নেওয়া ‘ইঞ্জিন প্রোটেকশন অ্যাড-অন’ কভারও এই ক্ষেত্রে খুব একটা কাজে আসবে না। কারণ ওই বিশেষ কভার মূলত জল ঢোকা বা তেল লিকেজের মতো আকস্মিক সমস্যার সমাধান করে, ইথানলের ক্ষতিকর প্রভাবের নয়।

ক্ষতির কারণ ও গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি পেট্রোল চালিত গাড়ি বা বাইকে এই নতুন ইথানল মিশ্রিত তেল ব্যবহারের ফলে মাইলেজ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি গাড়ির পারফরম্যান্স হ্রাস পাওয়া এবং ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোনো ক্লেম শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে ক্ষতির ধরন, গাড়ির ইঞ্জিনটি E20 উপযোগী কি না এবং বিমা কো ম্পা নির নিজস্ব মূল্যায়নের ওপর। ফলে বিমা থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিনের বড়সড় ক্ষতির সম্পূর্ণ আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত গাড়ি মালিকেরই ঘাড়ে চাপার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *