ইরানে ফের ভয়ঙ্কর মার্কিন হামলা, টানা ১৩ দিন অভিযান, কী পরিস্থিতি? জানুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের উপর মার্কিন আগ্রাসন থামার কোনো লক্ষণ নেই। শুক্রবারও একাধিক ভয়ংকর বিমান হামলা (এয়ারস্ট্রাইক) চালিয়েছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে সামরিক অভিযান চালাল ওয়াশিংটন, যার জেরে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে আক্রমণ শুরু হয়। এটি ছিল টানা ত্রয়োদশ রাতের অভিযান। সেন্টকমের মূল লক্ষ্য হলো— ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) যেভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা ও হুমকি সৃষ্টি করছে, তা পুরোপুরি প্রতিহত করা। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে সেন্টকম।
চরম আকার ধারণ করেছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত
এই লাগাতার হামলার ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েত জানিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এমনকি কুয়েতের আল-আবদালি সীমান্তেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি বাড়ায়। মার্কিন সেনার অভিযান এখন কেবল দক্ষিণাংশেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্টকম সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া না পর্যন্ত এই আক্রমণ জারি থাকবে।
পারমাণবিক কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
- বুশেহর হামলা: বৃহস্পতিবার ইরানের একমাত্র বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী বুশেহর অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
- হতাহত: ইরানের সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার খুজেস্তান প্রদেশের শালামচেহ সীমান্ত চৌকিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ধ্বংসলীলার মাঝেই থেমে নেই তেহরান। কুয়েত, বাহরিন ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিনপন্থী সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানও লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য ও বিশ্ব বাজারে তেলের সংকট
এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জলপথেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেও, ইরান পাল্টা হুংকার দিয়ে জানিয়েছে— তাদের অসামরিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে বড়ো ধরনের সংকট ও তীব্র মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
