ইরান যুদ্ধের ছায়ায় ভারত কি বড় বিপদে, ২৫ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আশঙ্কা!
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: ভারতের অর্থনীতিতে ধেয়ে আসছে দারিদ্র্যের অশনিসংকেত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল কেন্দ্রিক চলমান সামরিক উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ভারতের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
কেন বাড়ছে এই অর্থনৈতিক উদ্বেগ
ইউএনডিপি-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ২৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। এই সংকটের ঢেউ কেবল ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়। ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত। এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেবে।
দারিদ্র্য সীমার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের দারিদ্র্য বিমোচনের পথে বড় বাধা তৈরি হবে। ইউএনডিপি-র রিপোর্ট বলছে:
- ভারতের দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ২৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
- এর ফলে প্রায় ২৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারেন।
- এর ফলে ভারতের মোট দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩৫ কোটি ১৫ লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ৩৫ কোটি ৪০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।
- দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই (HDI)-এর অগ্রগতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা
ভারতের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিগুলোর একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি ও কৃষিখাতে এই নির্ভরতাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। খনিজ তেল থেকে শুরু করে সার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের ওপর ভারতের নির্ভরতা ব্যাপক:
- জ্বালানি তেল: ভারত তার প্রয়োজনের ৯০ শতাংশের বেশি খনিজ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার ৪০ শতাংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে।
- এলপিজি: দেশের রান্নার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ মেটায় মধ্যপ্রাচ্য।
- সার ও কৃষি: ভারতের কৃষিব্যবস্থা সারের ওপর নির্ভরশীল, যার ৪৫ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ আসে ওই অঞ্চল থেকে।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া মানে ভারতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে, যা সরাসরি দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ভারতের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এক ঝলকে
- রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা: ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)।
- নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন: প্রায় ২৫ লক্ষ (২৪,৬৪,৬৯৮ জন) ভারতীয়।
- দারিদ্র্যের সম্ভাব্য হার: ২৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪.২ শতাংশ।
- ভারতের মোট দরিদ্র জনসংখ্যা: প্রায় ৩৫.৪০ কোটি হওয়ার আশঙ্কা।
- মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা: ৪ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৪৫ শতাংশ সার আমদানি করা হয় অঞ্চলটি থেকে।
