একদশকের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার মুখে ভারত, ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো – এবেলা

একদশকের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার মুখে ভারত, ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা দুই বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পর ২০২৬ সালে এক চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) নিশ্চিত করেছে যে, গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষাকাল দেখতে পারে দেশ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী এই মৌসুমি বায়ুর মরশুমে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে, সম্পূর্ণভাবে ‘ঘাটতিযুক্ত বর্ষা’-র সম্ভাবনা এখন ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণ বছরে এই আশঙ্কা মাত্র ১৬ শতাংশ থাকলেও এবার তা প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষি ও জলসম্পদের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এর আগে ২০১৫ সালে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে খরা এবং তীব্র জলসঙ্কট দেখা দেয়। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’র প্রভাবেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। চিলি ও পেরুর উপকূলবর্তী অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা শুরু হয়েছে।

কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিপর্যয়

আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো পরিস্থিতি বর্তমানে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে এবং সেপ্টেম্বর মাসে এটি চরম রূপ ধারণ করতে পারে। এই সময়টি ভারতীয় কৃষির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ধান ও অন্যান্য খরিফ ফসলের পরিপক্ক হওয়ার এবং দানা ভরার পর্যায়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অপরিহার্য। সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির তীব্র অভাব দেখা দিলে তা সরাসরি শস্যের ফলন কমিয়ে দেবে। ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি এবং চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারও জুন মাস থেকে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সুরক্ষাকে বিঘ্নিত করতে পারে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

আঞ্চলিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া দেশের বাকি অংশে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি স্পষ্ট হবে। মধ্য ভারত, দক্ষিণ উপদ্বীপ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হবে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মনসুন কোর জোন’। দেশের বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমির এই মূল অঞ্চলেই সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আশার আলো ও আগামী দিন

তবে আবহাওয়াবিদরা একেবারে আশা ছাড়ছেন না। ১৯৫১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হওয়া ১৭টি এল নিনোর মধ্যে ৫টি ক্ষেত্রে ভারতে স্বাভাবিক বা তার বেশি বৃষ্টিপাতও দেখা গেছে। ভারতের বর্ষা সম্পূর্ণভাবে কেবল এল নিনোর ওপর নির্ভরশীল নয়। আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে আবহাওয়া দফতর জুলাই মাসের বৃষ্টিপাত নিয়ে পরবর্তী আপডেট প্রকাশ করবে, যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে দেশের পরবর্তী কৃষি কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *