এবার ‘X’ ক্যাটেগরির সুরক্ষাবলয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের ভরাডুবির পর প্রকাশ্য রাস্তায় জনরোষের মুখে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সোনারপুরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আচমকাই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ডিম ও কাদা ছোড়ে, এমনকি তাঁর জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনার পরেই রাজ্যে সদ্য ক্ষমতায় আসা নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস করে ‘এক্স’ (X) ক্যাটেগরির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে একটি সভা চলাকালীন হামলার শিকার হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৎকালীন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি পর্যালোচনা করে তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটেগরি করা হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির নিরিখে তাঁর সুরক্ষার পরিধি এবার অনেকটাই কমিয়ে আনা হলো।
কেমন থাকবে নতুন নিরাপত্তা বেষ্টনী
সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, ‘এক্স’ ক্যাটেগরি হলো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত সুরক্ষার সবচেয়ে প্রাথমিক স্তর। সাধারণত কোনো ব্যক্তির ওপর কম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য হুমকি বা হামলার আশঙ্কা থাকলে এই নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।
নতুন এই ব্যবস্থায় অভিষেকের সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবেন মাত্র ৪ থেকে ৫ জন কর্মী। যার মধ্যে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবেন ২ জন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার বা পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও)। এই স্তরের নিরাপত্তায় কোনো উন্নত কম্যান্ডো বা ব্ল্যাক ক্যাট বাহিনীর স্কোয়াড থাকে না। একই সাথে তাঁর যাতায়াতের জন্য আলাদা কোনো এসকর্ট বা পাইলট গাড়ির সুবিধাও মিলবে না।
সিদ্ধান্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারগুলির যৌথ ঝুঁকি পর্যালোচনার (Threat Assessment) ওপর ভিত্তি করে যেকোনো ভিভিআইপি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা স্তর নির্ধারিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুরের ঘটনাটি যেমন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনরোষের গভীরতাকে নির্দেশ করে, তেমনই সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবাধ জনসংযোগ ও রাজনৈতিক গতিবিধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। ‘জেড প্লাস’ থেকে একধাক্কায় প্রাথমিক স্তরের ‘এক্স’ ক্যাটেগরিতে নামিয়ে আনায় সাংসদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয় পূর্বের তুলনায় অনেকটাই শিথিল হবে, যা আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির সুরক্ষায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
