‘গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত’, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও পরবর্তীতে তার চিকিৎসা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চিত পরিস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত এক ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই হামলা পরিকল্পিত এবং এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে।
আঘাতের গুরুত্ব ও চিকিৎসার জটিলতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পাথরবৃষ্টি ও শারীরিক হামলার ফলে তার মুখ, পিঠ, বুক ও গলায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি জানান, আঘাতের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সময়মতো মাথায় হেলমেট না থাকলে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। হামলার পর অভিষেককে আইটিইউ-তে রেখে বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা ও স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তাকে তড়িঘড়ি ডিসচার্জ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মমতা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকদের পেশাদার বিচারবুদ্ধির ওপর নির্ভর করা উচিত, যেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
এই ঘটনার পেছনে স্থানীয়দের বদলে বহিরাগতদের উস্কানি ছিল বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, প্রশাসন আগে থেকে তথ্য পেয়েও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে। চিকিৎসা কেন্দ্র ও তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রবণতাকে তিনি তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের নির্ধারিত জনসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে এবং এই ধরনের ভয়ের পরিবেশ ও রাজনৈতিক অপচেষ্টার জবাব গণতান্ত্রিক উপায়েই দেওয়া হবে। এই ঘটনায় রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও কপিল সিবলের মতো জাতীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
