কান্না পেলেই শুধু ডিপ্রেশন নয়! জেনে নিন শরীরের যে গোপন সংকেতগুলি বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে – এবেলা

কান্না পেলেই শুধু ডিপ্রেশন নয়! জেনে নিন শরীরের যে গোপন সংকেতগুলি বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন বলতেই সাধারণত চোখের জল, তীব্র মনখারাপ কিংবা বিছানা ছেড়ে উঠতে না পারার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু ‘ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন’ বা চিকিৎসাগত অবসাদ সবসময় চেনা রূপে ধরা দেয় না। দৈনন্দিন জীবনে এটি প্রায়শই এমন কিছু আড়াল করা শারীরিক ও মানসিক সংকেতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে, যা আমরা সাধারণ ক্লান্তি, কাজের চাপ কিংবা বয়সের দোষ ভেবে ভুল করি। ফলে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর রোগী বুঝতেও পারেন না যে তিনি জটিল এক রোগের শিকার।

ডিপ্রেশনের এমন কিছু বিপজ্জনক সংকেত, যা সময়মতো চেনা অত্যন্ত জরুরি:

  • মস্তিষ্কের ধীরগতি বা ‘ব্রেন ফগ’: মানসিক ধীরগতি ও ফোকাসের অভাব অবসাদের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সাধারণ কোনো ইমেলের উত্তর দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগা, দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজ গুছিয়ে উঠতে না পারা বা সাধারণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তীব্র আতঙ্কে ভোগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রক অংশ ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে’ নিউরোট্রান্সমিটারের যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মানসিক চপলতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
  • অকারণ শারীরিক অস্বস্তি ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: সুনির্দিষ্ট কোনো শারীরিক কারণ ছাড়াই শরীরে নানারকম ব্যথা অনুভূত হওয়া অবসাদের অত্যন্ত পরিচিত রূপ। সেরোটোনিন ও নরপাইনফ্রাইনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার কেবল মেজাজই নিয়ন্ত্রণ করে না, স্নায়ুতন্ত্র কীভাবে ব্যথার সংকেত প্রক্রিয়াজাত করবে তাও নির্ধারণ করে। এই রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যায়। রক্ত পরীক্ষা বা রিপোর্টে কোনো রোগ ধরা না পড়লেও রোগী প্রায়ই পিঠের নিচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী টান, টেনশন হেডেক, পেশিতে খিঁচ ধরা বা পেটের গোলযোগে ভোগেন।
  • চরম বিরক্তি ও আনন্দ হারিয়ে যাওয়া (‘অ্যানহেডোনিয়া’): ডিপ্রেশন অনেক সময় দুঃখের বদলে চরম বিরক্তি বা মেজাজ হারানোর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সামান্য কারণেই চটে যাওয়া, সহকর্মীদের ওপর হঠাৎ রেগে যাওয়া বা ছোটখাটো ঘটনায় ক্ষিপ্ত হওয়া বোঝায় যে স্নায়ুতন্ত্র আবেগ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এর পাশাপাশি দেখা দেয় ‘অ্যানহেডোনিয়া’—অর্থাৎ, যে কাজ বা শখ একসময় আনন্দ দিত, তার প্রতি পুরোপুরি অনীহা তৈরি হওয়া। ব্যক্তি হয়তো যান্ত্রিকভাবে রুটিন কাজ করে যান, কিন্তু অন্তরে আনন্দের লেশমাত্র থাকে না।
  • ঘুমের চরম অনিয়ম: ঘুমের ব্যাঘাত ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের অন্যতম বড় উপসর্গ। মাঝরাত বা ভোর ৩টে-৪টে নাগাদ মাথায় হাজারও চিন্তার জট নিয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং আর ঘুম না আসা এর স্পষ্ট লক্ষণ। আবার অন্যদিকে, ৮-৯ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও প্রচণ্ড ক্লান্তি নিয়ে ঘুম ভাঙাও একই ইঙ্গিত দেয়।

ডিপ্রেশন কোনো মানসিক দুর্বলতা বা অলসতা নয়; এটি একটি জটিল জৈব-রাসায়নিক রোগ। কাজ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যের চিরস্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আগেই এই নীরব সংকেতগুলি চিনে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *