কেন্দ্র-রাজ্য একযোগে না হাঁটলে বিকশিত ভারত আসাম্ভব! নীতি আয়োগের বৈঠকে মোদীর কড়া বার্তা – এবেলা

কেন্দ্র-রাজ্য একযোগে না হাঁটলে বিকশিত ভারত অসম্ভব! নীতি আয়োগের বৈঠকে মোদীর কড়া বার্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকে ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসকদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে ভারতের অবিস্মরণীয় অগ্রগতি বজায় রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারতের স্বপ্নপূরণ করতে প্রতিটি গ্রাম, ব্লক, জেলা ও রাজ্য স্তরে সম্মিলিত সংকল্প গ্রহণই এই বৈঠকের মূল কারণ।

উন্নয়নের রূপরেখা ও রাজ্যের ভূমিকা

দেশের বিপুল যুবশক্তিকে অন্যতম প্রধান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭০ কোটি ভারতীয়র অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এখন সবচেয়ে জরুরি। এই বিশাল জনসম্পদকে সঠিক শিক্ষা, সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়নের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব হিসেবে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পগুলির (MSME) জন্য নতুন পথ খোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে রাজ্যগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ‘এক জেলা এক পণ্য’ উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকে রপ্তানিমুখী অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উঠে আসে এই বিশ্লেষণে।

কৃষি, নারীকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা

নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে ‘লাখপতি দিদি’র সংখ্যা ৩ কোটি থেকে ৬ কোটিতে উন্নীত করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, এল নিনোর জেরে তৈরি হওয়া প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জল সংরক্ষণ ও জৈব কৃষিতে রাজ্যগুলিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক বদল আনতে ১০০টি জেলাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদকাসক্তি ও সাইবার জালিয়াতির মতো ক্রমবর্ধমান সামাজিক ব্যাধি রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে সুরক্ষিত সমাজ গঠনে বড় প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকের শেষে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিতে কেন্দ্রের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রীরা। পারস্পরিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং যৌথ দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার এই সম্মিলিত প্রয়াস আগামী দিনে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *