গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না, ধনিয়াখালিতে জনরোষ ও ডিম বৃষ্টির মুখে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক! – এবেলা

গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না, ধনিয়াখালিতে জনরোষ ও ডিম বৃষ্টির মুখে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ ও অস্ত্র মামলার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায়কে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল ধনিয়াখালি থানা চত্বরে। সোমবার ট্রানজিট রিমান্ড শেষে তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করার জন্য থানা থেকে বের করার সময় ক্ষিপ্ত জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম ছোড়ে এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিয়ে জুতোর মালা প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কোনওরকমে প্রিজন ভ্যানে করে অভিযুক্তকে নিয়ে থানা এলাকা ত্যাগ করে।

ত্রাণ দুর্নীতি ও পলায়ন পর্ব

ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ জুন। ধনিয়াখালির কোটালপুর এলাকায় রামেন্দু সিংহ রায়ের বাড়ি সংলগ্ন একটি শিক্ষক শিক্ষণ কলেজ থেকে সরকারি লোগোযুক্ত বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কম্বল এবং ডাস্টবিনসহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর বেআইনিভাবে ত্রাণ মজুত রাখা, হুমকি দেওয়া এবং অস্ত্র আইনে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের গঠিত বিশেষ দল। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই গ্রেফতারি এড়াতে ওড়িশা, বিশাখাপত্তনম ও হায়দরাবাদ হয়ে শেষ পর্যন্ত কর্নাটকে গিয়ে আত্মগোপন করেন এই তৃণমূল নেতা। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তিনি স্মার্টফোনের ব্যবহার ছেড়ে সাধারণ ফিচার ফোন ব্যবহার করছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি, গত ১৯ জুলাই কর্নাটকের সাহাপুর থানা এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে গ্রেফতার করে এবং তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে রবিবার রাতে ধনিয়াখালি থানায় নিয়ে আসে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রবিবার রাতে রামেন্দুকে ধনিয়াখালি থানায় নিয়ে আসার খবর ছড়াতেই আগে থেকে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বিরোধী দল বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা, যা সোমবার সকালে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ এবং প্রভাবশালী নেতার ভিন রাজ্যে পালিয়ে বেড়ানোর ঘটনাটি শাসকদলের ভাবমূর্তিকে জনমানসে কালিমালিপ্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে হুগলি জেলা জুড়ে বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংঘাত এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *