চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড: ৫৯ সেকেন্ডে ১০ রাউন্ড গুলি! চণ্ডীপুরে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ নেতার খুনে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘গ্লক ৪৭এক্স’

পশ্চিমবঙ্গের চণ্ডীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বুধবার রাতের এই পরিকল্পিত হামলায় পেশাদার ঘাতকদের সংশ্লিষ্টতা এবং আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের ঝটিকা অভিযানে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার মধ্যে তিনটি গুলি তার বুক ও পেট এফঁড়ফেঁড় করে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪১ বছর বয়সী এই নেতার।
খুনের নেপথ্যে নিখুঁত পরিকল্পনা
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত তিন থেকে চার দিন চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা বা ‘রেকি’ করা হয়েছিল। ঘাতকরা গ্লক ৪৭এক্স (Glock 47X) পিস্তল ব্যবহার করেছে, যা সাধারণত পেশাদার খুনিদের পছন্দের তালিকায় থাকে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটিও ভুয়া ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা গুরুতর জগত অবস্থায় বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
হত্যাকাণ্ডের সময় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সাথে ফোনে কথা বলছিলেন চন্দ্রনাথ। শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, কথা বলার মাঝেই তিনি ওপার থেকে মানুষের চিৎকার শুনতে পান, যদিও সরাসরি গুলির শব্দ ফোনে ধরা পড়েনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি শাসকদলকে নিশানা করে দাবি করেছেন, নির্বাচনী হারের প্রতিশোধ নিতেই তার সহযোগীকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ডিজিপি সিদ্ধ নাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত একটি সন্দেহভাজন গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে মূল হামলাকারীরা এখনও অধরা থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাবে উত্তরের জনপদে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
