জেলায় জেলায় কি বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ হচ্ছে, সংগঠন বাঁচাতে জরুরি বৈঠকে শমীক! – এবেলা

জেলায় জেলায় কি বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ হচ্ছে, সংগঠন বাঁচাতে জরুরি বৈঠকে শমীক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনকে শৃঙ্খলিত ও সুপরিচালিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক বৈঠক। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গেরুয়া শিবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ রোধ করা। এই লক্ষ্যেই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রীসহ দলের একাধিক সাংসদকে বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দিয়ে ময়দানে নামানো হয়েছে।

অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর বার্তা ও তিন দফার দাওয়াই

তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর তাদের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খোদ দলের অন্দরেই অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথমত, নির্বাচনের পর হঠাৎ বিজেপি সেজে বসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা; দ্বিতীয়ত, দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তৃতীয়ত, দখলদারির রাজনীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার কঠোরভাবে রোধ করা। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের নেতাদের অহংকার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দখলদারির রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে।

শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৫ সদস্যের জেলা কোর কমিটি

সংগঠনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে রাজ্যের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটিতে একটি করে ১৫ সদস্যের ‘কোর কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ এবং রাজ্যস্তরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। জেলাস্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং যে কোনও ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তে এই কমিটিগুলি মূল ভূমিকা পালন করবে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিজেপির এই আকস্মিক সক্রিয়তার মূল কারণ হলো, কিছু এলাকায় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি দফতরে অযথা হস্তক্ষেপ এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু প্রোমোটার ও প্রাক্তন তৃণমূল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শ্রমিক সংগঠন বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘চাঁদাবাজির সংস্কৃতি’ বন্ধ করাও নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শুদ্ধীকরণ অভিযান সময়মতো সফল না হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে নতুন শাসকদলকে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমানসে দলের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই এই সাংগঠনিক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *