তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়, মৃত ৩! ‘প্ল্যানে গলদ’ ধরে রাজ্যে সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণে স্থগিতাদেশ মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বুধবার দুপুরে তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। লোহার শেডের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ জন শ্রমিকের, আটকে রয়েছেন আরও অনেকেই। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরপরই কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিল্ডিং প্ল্যানে বড়সড় গলদ ছিল। এই ঘটনার জেরে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণকাজের ওপর অডিট করার জন্য সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে নবান্ন।
উদ্ধারকাজে সেনা ও এনডিআরএফ (NDRF)
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত উদ্ধারকাজের নির্দেশ দেন। দুপুর ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ সেনাকে নামানো হয়। কলকাতা পুলিশ, দমকল, সিভিল ডিফেন্স এবং এনডিআরএফ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও আর্থ মুভার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
- এ পর্যন্ত ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন জীবিত এবং ৩ জন মৃত।
- এখনও ১২ থেকে ১৮ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা।
- আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। গ্রিন চ্যানেল করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সিএমওএইচ-এর অধীনে ২০টি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলির তৎপরতার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিভিল ডিফেন্স এবং কলকাতা পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ না করলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক দীর্ঘ হতো।”
কাঠগড়ায় কন্ট্রাক্টর এবং ‘ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নবান্নে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, কলকাতা পুরসভার (KMC) ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এই গোডাউনের প্ল্যানে মারাত্মক ত্রুটি ছিল।
- গত ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
- শম্ভুনাথ বেহেরা (Behera Brothers) নামে এক কন্ট্রাক্টরের কাছে এই কাজের বরাত ছিল।
- মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাতেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে আসবে এবং এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সমস্ত রকম কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩১ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণ বন্ধ
বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি রুখতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জরুরি পরিষেবা (যেমন হাসপাতাল বা সেনার নির্মাণ) ছাড়া রাজ্যের সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রজেক্টের অডিট হবে। যাদের কাগজপত্র ও প্ল্যানিং সব দিক থেকে নিখুঁত থাকবে, কেবল তারাই ১ অগস্ট থেকে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারবে।
যেহেতু বর্তমানে বিধানসভার অধিবেশন চলছে, তাই মৃত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
