তারেক সরকারের নতুন চাল, এবার তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে বাংলাদেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার পর এবার তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, এভিয়েশন, আইসিটি এবং চিকিৎসা খাতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে দিল্লিকে চাপে রাখতেই আঙ্কারার সঙ্গে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে হাঁটছে ঢাকা।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ
নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপে এর্ডোয়ানের প্রশাসন। অতীতে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে ড্রোন ও কৌশলগত ইন্ধন জোগানোর কারণে তুরস্কের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরাবরের মতোই উত্তপ্ত। ইউনূস সরকারের আমলেই বাংলাদেশে সামরিক অস্ত্র কারখানা স্থাপনের চুক্তি করে আঙ্কারা ঢাকার কাছাকাছি এসেছিল। এবার বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে যুক্ত করে একটি নতুন আঞ্চলিক অক্ষ তৈরির প্রক্রিয়া জোরালো করছে তুরস্ক, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আকস্মিক সামরিক ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন মিত্র খোঁজার প্রয়াস কাজ করছে। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাক করার ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ আধুনিক তুর্কি সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারের সুবিধা পেতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করবে। তবে তুরস্কের এই প্রকাশ্য আশ্বাস এবং দিল্লির বিরুদ্ধে ঢাকার শক্ত অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্যে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
