তৃণমূলের প্রথম বৈঠকেই ১১ জয়ী গরহাজির! দলত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা তৃণমূলের প্রথম পরিষদীয় দলের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন দলের ১১ জন জয়ী প্রার্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমের কাজল শেখ থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের বায়রণ বিশ্বাস ও মুস্তাফিজুর রহমান (সুমন), এমনকি আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকির মতো বিধায়কদের অনুপস্থিতি জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও জল্পনা দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুপস্থিতি নিয়ে দলীয় ব্যাখ্যা ও বিস্ময়
বৈঠকে গরহাজির থাকা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই ওই জয়ী প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে রয়েছেন। বীরভূমের কাজল শেখের ক্ষেত্রে নানুরের রাজনৈতিক অশান্তি ও মৃত্যুর কারণ দর্শানো হলেও, বাকিদের অনুপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো চলছে। বৈঠকে উপস্থিত অনেক বিধায়কই নেত্রীর ডাকা প্রথম সভায় এতজনের অনুপস্থিতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে দূরের জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের যখন কলকাতায় থাকতে বলা হয়েছে, তখন এই অনুপস্থিতি জল্পনায় নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে।
বিশ্বাসঘাতকদের জন্য ‘গেট আউট’ বার্তা
ভোট পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মতো প্রবীণ নেতাদের ‘বেসুরো’ মন্তব্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও ফিরহাদ হাকিমদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন তিনি। বৈঠকে দলনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:
“যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।”
বিধানসভায় ‘কালো পোশাক’ ও আন্তর্জাতিক আদালতের হুঁশিয়ারি
গণনায় ‘লুট’ ও ‘কারচুপির’ অভিযোগে নিজের অবস্থানে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ স্বরূপ তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীরা প্রথম দিন বিধানসভায় কালো পোশাক পরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে এই লড়াই আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
অভিষেকই শেষ কথা: কড়া নির্দেশ নেত্রীর
বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিশ্রম ও অবদানের প্রশংসা করে তাঁকে অভিনন্দন জানান মমতা। সমস্ত বিধায়ককে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে সম্মান জানাতে নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বার্তা দেন, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকের নির্দেশ মেনেই সবাইকে কাজ করতে হবে। মমতা সাফ জানিয়ে দেন, “কেউ যদি অভিষেককে মানতে না চান, তবে তিনি দল ছেড়ে দিতে পারেন।”
আগামী ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন থেকেই তৃণমূল তাদের নতুন কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে, যে দিন রাজ্যে বিজেপি সরকারের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
