তৃণমূল না বিজেপি, কার দিকে পাল্লা? বাংলায় রেকর্ড ৯২% ভোটের পর এক্সিট পোলে বড় মোড়!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে যেখানে সব সংস্থাই নিজেদের সমীক্ষা সামনে আনছে, সেখানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাংলা থেকে হাত গুটিয়ে নিল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সমীক্ষক সংস্থা ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’। বুধবার ভোট মিটলেও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব এবং ত্রুটিমুক্ত ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে বাংলার এক্সিট পোলের তথ্য প্রকাশ না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংস্থার এমডি প্রদীপ গুপ্তা।
তথ্য গোপনের নেপথ্যে ভয় এবং জনমানসের নীরবতা
সংস্থার প্রধানের দাবি অনুযায়ী, এবার বাংলার ভোটারদের মধ্যে এক অদ্ভুত ও অভূতপূর্ব নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটারই তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রদীপ গুপ্তা জানান যে, মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে এবং তারা সরাসরি কথা বলতে নারাজ। মাত্র ২০-৩০ শতাংশ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করতে চান না বলেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভোটের হারে রেকর্ড এবং অনিশ্চয়তা
তথ্যাদি প্রকাশের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বঙ্গে এবার দুই দফায় রেকর্ড ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর বাংলায় সর্বোচ্চ। ২০১১ সালের মমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময়ের ভোটকেও ছাপিয়ে গেছে এবারের হার। এই বিপুল ভোট আসলে কার পক্ষে যাচ্ছে, তা নিয়ে যখন বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছে, তখন অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতো সংস্থার সরে যাওয়া রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। এই ফলাফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতা ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এক ঝলকে
সঠিক তথ্যের অভাবে ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
অভাবনীয় নীরবতা ও ভয়ের কারণে বাংলার এক্সিট পোল প্রকাশ করল না অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া।
প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সমীক্ষক দলের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি।
বঙ্গে দুই দফার ভোটে ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়ে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
