নবান্নে আমলাতন্ত্রের ‘শুদ্ধিকরণ’, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নিযুক্ত সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও কর্মকর্তাদের সরকারি দপ্তরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নালায়া ইতিমধ্যে সমস্ত বিভাগীয় সচিবদের এই বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।
ফাইলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান শীর্ষ আমলাতন্ত্র। নির্দেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি বিভাগে উপদেষ্টা বা অন্য পদে চুক্তিতে কর্মরত কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজ থেকে আর অফিসে আসতে পারবেন না। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল এবং নথি যাতে কোনোভাবেই দপ্তরের বাইরে না যায় বা নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে আর্থিক উপদেষ্টা ও বিভাগীয় সচিবদের সতর্ক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক উপদেষ্টা পদত্যাগ করে সরকারি আবাসস্থল ছাড়তে শুরু করেছেন।
ক্ষমতার পালাবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত হওয়ার পর এই প্রশাসনিক রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রভাব মুক্ত করে নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
