নবান্নে মহালগ্ন, সোমবার শপথ নিচ্ছেন ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সব জল্পনা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার সকাল ১১টায় নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী। রাজভবনের চার দেওয়াল ছাড়িয়ে এবার খোদ নবান্নেই বসছে শপথগ্রহণের রাজকীয় আসর। মহামান্য রাজ্যপাল শ্রী আর এন রবি নবান্নে উপস্থিত থেকে নতুন মন্ত্রীদের পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত প্রত্যয়ী সুরে জানিয়েছেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত জাতীয়তাবাদী সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতেই এই মেগা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তালিকায় হেভিওয়েটদের ভিড় এবং সমীকরণ
রাজনৈতিক অলিন্দে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, এই সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একঝাঁক জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ এবং প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ওজনদার দপ্তর বরাদ্দ করা হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় অর্জুন সিং, উমেশ রাই, ডক্টর অজয় কুমার পোদ্দার, কলিতা মাঝি, দীপক বর্মন, বিশাল লামা, শঙ্কর ঘোষ এবং মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের মতো নাম রয়েছে। এছাড়াও জোয়েল মুর্মু, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সারাদ্যোত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তাপস রায়, দুধকুমার মণ্ডল, গার্গী ঘোষ দাস, মালতি রাভা রায়, অশোক দিন্দা এবং স্বপন দাশগুপ্তের মতো শীর্ষ নেতৃত্বের ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একই সাথে জল্পনা বাড়িয়ে এই মেগা তালিকায় নাম রয়েছে রূপা গাঙ্গুলীরও। লোকসভা এবং বিধানসভাভিত্তিক আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল। সম্প্রতি রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীর ওপর অত্যাচারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দুটি পৃথক ও শক্তিশালী কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে গঠিত এই দুটি কমিশনই আগামী ১লা জুন থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করতে চলেছে। ঠিক একই দিনে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে শুভেন্দুর ‘জাতীয়তাবাদী’ মন্ত্রিসভা। এর প্রধান কারণ হলো, নতুন দুটি কমিশনের কাজ শুরু করার পাশাপাশি সরকারের প্রশাসনিক গতি সচল রাখা এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। এই মেগা সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনের কাজে গতি আসবে, অন্যদিকে প্রতিটি জেলায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাজ্যে এক নতুন ধারার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।
