নারী সংরক্ষণ বিলের প্রশংসায় মোদীকে চিঠি লিখলেন প্রতিভা পাটিল!
নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম: মহিলা সংরক্ষণ বিলের সমর্থনে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বার্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা
রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা
মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-কে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের নানামুখী তৎপরতা এখন আলোচনার শীর্ষে। সরকারের ডাকা বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালে এই বিলটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি এই বিলকে ভারতীয় গণতন্ত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির দৃষ্টিভঙ্গি ও গুরুত্ব
প্রতিভা পাটিল তাঁর পত্রে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, এই বিল কেবলমাত্র একটি আইনি সংশোধন নয়, বরং এটি দেশের নারীদের ক্ষমতায়নের এক অনন্য হাতিয়ার। তাঁর মতে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থায় নারীদের বৃহত্তর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই আরও শক্তিশালী হবে। তিনি লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতেই এই বিলকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
বিল দ্রুত বাস্তবায়নের পথে সরকার
২০২৩ সালে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস হওয়া এই বিল অনুযায়ী, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত ছিল, নতুন জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পর সংরক্ষিত আসন কার্যকর হবে। তবে সরকার এখন সেই অবস্থান পরিবর্তন করে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকছে। ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতেই যাতে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে নীতিগত পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও নারী শক্তির প্রতি তাঁর দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এক খোলা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, দেশের নারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা আর কাম্য নয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় নারীদের কণ্ঠস্বর জোরালো হলে দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বিল কার্যকর হলে ভারতীয় রাজনীতির চিরাচরিত কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে সরকারি সিদ্ধান্ত ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বৈচিত্র্য আসবে। দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই বিল যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই বিলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- প্রস্তাবিত নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
- শুরুতে জনগণনার পর আসন বিন্যাসের পরিকল্পনা থাকলেও, সরকার এখন দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে কাজ করতে চাইছে।
- সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা।
