নিকোবরে ধ্বংস হবে সাড়ে আট লক্ষ গাছ! জাতীয় স্বার্থের যুক্তিতে রাহুলকে তীব্র আক্রমণ রিজিজুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৮০ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট’ ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা ও পরিবেশগত উদ্বেগ। এই মেগা প্রকল্পে দ্বীপের প্রায় সাড়ে আট লক্ষ গাছ কাটা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তীব্র দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবেশবিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানীরা। বিরোধীদের সমস্ত আশঙ্কার মাঝেই এই প্রকল্পকে সম্পূর্ণ রূপে ‘জাতীয় স্বার্থ’ বলে দাবি করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
অপপ্রচার চালাচ্ছেন রাহুল, সরব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
প্রকল্পের শুরু থেকেই সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের পক্ষে সওয়াল করে এর কড়া বিরোধিতা করছেন রাহুল গান্ধী। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সম্প্রতি তিনি আন্দামান সাগরে স্কুবা ডাইভিংও করেন। এর পালটা জবাবে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে রাহুল গান্ধী মূলত ভারতের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সুবিধাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য ২৬ কোটি টাকা খরচের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই খবর ছড়িয়ে প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, ভারতের পরিবেশ আইন ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং কোনও সরকারই খেয়ালখুশিমতো পরিবেশ ধ্বংস করতে পারে না। উপজাতিদের কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে যে কোনও পারস্পরিক বিরোধ নেই, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।
পরিবেশের সংকট ও আদালতের শর্ত
গ্রেট নিকোবর দ্বীপের গালাতিয়া বে এবং ক্যাম্পবেল বে ন্যাশনাল পার্কে এমন অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না। বিপুল সংখ্যক গাছ কাটা পড়লে সেখানকার এই ‘এনডেমিক’ প্রাণীদের অস্তিত্ব চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এখানকার প্রকৃতির অনেক কিছুই এখনও মানুষের কাছে অনাবিষ্কৃত। তবে সমস্ত দিক বিবেচনা করে জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল (এনজিটি) বেশ কিছু কড়া শর্তসাপেক্ষে এই প্রকল্পকে শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত দিয়েছে। পরিবেশ আদালতের ইস্টার্ন জোন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আরোপিত শর্তের বিন্দুমাত্র লঙ্ঘন হলে প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। আপাতত ৯২১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপের প্রাকৃতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশিকা ও শর্ত কঠোরভাবে পালনের উপর।
