‘নিজেদের দল গড়ুন, কিন্তু তৃণমূলের নাম নেবেন না’, বিদ্রোহী বিধায়কদের তোপ মহুয়ার – এবেলা

‘নিজেদের দল গড়ুন, কিন্তু তৃণমূলের নাম নেবেন না’, বিদ্রোহী বিধায়কদের তোপ মহুয়ার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মমতা ছাড়া তৃণমূল অচল! বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সুর চড়ালেন মহুয়া মৈত্র

প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় তিন দশকে নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের অন্দরে চলা এই বেনজির মহাবিদ্রোহের মাঝেই আসরে নামলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দল ভাঙানো বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘সম্পূর্ণ অকেজো’ বলে কটাক্ষ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এতকাল এই নেতারা নেত্রীর জনপ্রিয়তার হাওয়ায় ভেসে টিকে ছিলেন। এখন বিরোধী বেঞ্চে বসে লড়াই করার মতো রাজনৈতিক সাহস বা ক্ষমতা তাঁদের নেই।

বিদ্রোহী বিধায়কদের এই দলবদলের নেপথ্যে বিজেপির ব্ল্যাকমেইল নীতিকেই দায়ী করেছেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয় দেখিয়ে এবং গ্রেপ্তারের জুজু দেখিয়ে বিধায়কদের জোরপূর্বক দলবদল করানো হয়েছে। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সুকৌশলী পরিকল্পনাতেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাজানো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এই বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছে।

রাজনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ পথ

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মহুয়ার স্পষ্ট বার্তা, তৃণমূল কোনও প্রতীক বা নামের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই ঘাসফুল প্রতীক এঁকেছিলেন। যিনি শূন্য থেকে নিজের প্রতীক তৈরি করে লড়াইয়ের জোরে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তিনি দরকারে আবার নতুন দল গড়বেন। দল ভাঙলেও মমতার অজেয় জনপ্রিয়তাই আসল শক্তি বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের দাবি ছিল তাঁদের এই ক্ষোভ মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে, কিন্তু মহুয়া সেই যুক্তিকে তীব্রভাবে নস্যাৎ করেছেন। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, এই দলত্যাগী নেতারা যদি নিজেদের পথ আলাদা করতে চান, তবে যেন তৃণমূলের নাম ব্যবহার না করেন। সব মিলিয়ে, এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণকে যে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *