মাঝেসাঝে ধূমপান কি সত্যিই নিরাপদ, সোশ্যাল স্মোকিংয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘রোজ তো খাই না, বন্ধুদের আড্ডায় দু-একটা!’ বন্ধুদের আড্ডা, কোনো পার্টি কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের মুহূর্তে দু-একটা সিগারেটে টান দেওয়াকে অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন। নিজেদের ‘সোশ্যাল স্মোকিং’ বা ‘অকেশনাল স্মোকিং’-এর আড়ালে রেখে ভাবেন যে তারা বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল এবং বিপজ্জনক বলে প্রমাণ করেছে। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ৭,০০০-এরও বেশি রাসায়নিক উপাদান শরীরে প্রবেশ করামাত্রই তার ধ্বংসাত্মক কাজ শুরু করে দেয়। আপনি নিয়মিত ধূমপায়ী নাকি কেবল মাঝেসাঝে সোশ্যাল গ্যাদারিং-এ ধূমপান করেন, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তা আলাদা করতে পারে না।
হার্ট ও ফুসফুসের ওপর তাৎক্ষণিক আঘাত
আমাদের রক্তসংবহনতন্ত্র তামাকের ধোঁয়ার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সিগারেটে টান দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নিকোটিনের প্রভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ এক ধাক্কায় বেড়ে যায়। একই সাথে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে মাত্র ১ থেকে ৪টি বা তারও কম সিগারেট খান, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি ধূমপান না করা মানুষদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এর ফলে রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ধমনীতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক। অন্যদিকে প্রতিবার ধোঁয়া ভেতরে নেওয়ার ফলে ফুসফুসের শ্বাসনালীতে তীব্র জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হয়। এর ফলে সোশ্যাল স্মোকারদের মধ্যেও ক্রনিক কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসে সংক্রমণের মতো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়।
ক্যানসারের ঝুঁকি ও আসক্তির অলক্ষ্য ফাঁদ
চিকিৎসকদের মতে, তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান বা কার্সিনোজেনগুলো অল্প এক্সপোজারেই কোষের ডিএনএ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ক্ষতি সময়ের সাথে সাথে শরীরে জমতে থাকে এবং একসময় ফুসফুস, খাদ্যনালী, মূত্রথলি, মুখগহ্বর ও গলার ক্যানসারের রূপ নেয়। ক্যানসারের ঝুঁকি কেবল সিগারেটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং শরীর কতদিন ধরে এই বিষের সংস্পর্শে আসছে, তার ওপরও নির্ভর করে। পাশাপাশি নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর বস্তু হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বদলে দেয়। ফলে আজ যে ধূমপান কেবল শনি-রবির আড্ডায় সীমাবদ্ধ, তা খুব দ্রুতই প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, ধূমপানের কোনো ‘নিরাপদ মাত্রা’ নেই এবং অল্প মাত্রায় ধূমপানও শরীরের ভেতরে অলক্ষ্যেই বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করে চলে।
