নেপালে জলবোমা বিস্ফোরণ: কোশী-ত্রিশূলীর রোষে প্লাবিত উত্তর ভারত, জারি লাল সতর্কতা – এবেলা

নেপালে জলবোমা বিস্ফোরণ: কোশী-ত্রিশূলীর রোষে প্লাবিত উত্তর ভারত, জারি লাল সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নেপালে রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি নদীগুলির রূদ্ররূপের কারণে এক ভয়াবহ জলবোমা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কোশী, ত্রিশূলী ও গণ্ডক নদীর উপচে পড়া জলে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ভারতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।

ব্যারেজের ৩৬টি গেটই উন্মুক্ত নেপালের দেবঘাটে নারায়ণী নদী (ভারতে গণ্ডক নামে পরিচিত) বিপদসীমার আড়াই মিটার ওপর দিয়ে বইছে। পাশাপাশি ত্রিশূলী নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে গণ্ডকে মিশায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাল্মীফিনগরের গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC) জানিয়েছে, ব্যারেজটি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ৮০ হাজার কিউসেক থেকে লাফিয়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেকে পৌঁছেছে।

বিপদের মুখে যেসব জেলা বন্যার আশঙ্কায় বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, সীতামারি ও সেওহারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরকেও। কেবল পশ্চিম চম্পারণ থেকেই প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকাজে যৌথ তৎপরতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে স্বরাষ্ট্র, জলশক্তি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যৌথভাবে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন।

দুর্গত এলাকায় এনডিআরএফ (NDRF)-এর ৯টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের জন্য দিল্লির হিন্দন এয়ারবেস থেকে C-17 বিমানযোগে ৩০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। নীচু এলাকা খালি করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *