পাঞ্জাবের আপ সাংসদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইডির হানা, রাঘবের পরিবর্ত কি তবে বিপাকে?

আম আদমি পার্টির অস্বস্তি বাড়িয়ে লভলি প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইডির তল্লাশি
রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) নবনিযুক্ত রাজ্যসভার সাংসদ অশোক মিত্তাল। সম্প্রতি রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে অশোক মিত্তালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই রদবদলের কয়েকদিন পরই শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী মিত্তালের মালিকাধীন লভলি প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তদন্তের পরিধি ও অভিযোগ
ইডি সূত্রে খবর, বিদেশি মুদ্রা আইন বা ফেমা (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা পাঞ্জাবের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয়টি ছাড়াও জলন্ধর এবং ফাগওয়ারা সহ পাঞ্জাব এবং গুরুগ্রামের মোট ৮ থেকে ৯টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তকারী দল সাংসদ মিত্তাল ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং একটি খামারবাড়ির নথিপত্র খতিয়ে দেখেছেন। আর্থিক তছরূপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই বড়সড় অভিযান বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আম আদমি পার্টি একে সরাসরি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে বর্ণনা করেছে। আপ নেতৃত্বের অভিযোগ, পাঞ্জাবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে হাতিয়ার করে বিরোধী নেতাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি সরাসরি মোদি সরকারকে নিশানা করে মন্তব্য করেন, পাঞ্জাবের নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের ছক অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে। যদিও এজেন্সিগুলো সবসময়ই নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলে থাকে, তবে ভোটের মুখে এই ধরনের অভিযান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এক ঝলকে
- ঘটনার সূত্রপাত: সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হওয়া অশোক মিত্তালের মালিকাধীন লভলি প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইডির হানা।
- অভিযোগের কারণ: বিদেশি মুদ্রা আইন (FEMA) লঙ্ঘন এবং আর্থিক তছরূপের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
- তল্লাশির এলাকা: পাঞ্জাবের জলন্ধর, ফাগওয়ারা এবং গুরুগ্রাম সহ মোট ৯টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: একে নির্বাচনী প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে আম আদমি পার্টি, পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
- প্রেক্ষাপট: রাঘব চাড্ডার পরিবর্তে সম্প্রতি দলের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অশোক মিত্তালকে।
