পায়ুপথে ওটা কী! রোগীর অবস্থা দেখে আতঙ্কে স্তব্ধ চিকিৎসক!

পায়ুপথে ওটা কী! রোগীর অবস্থা দেখে আতঙ্কে স্তব্ধ চিকিৎসক!

হাসপাতালে আতঙ্ক: অস্ত্রোপচারে উদ্ধার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জীবন্ত গোলা, নেপথ্যে রহস্য

ফ্রান্সের তুলুজ শহরের রঁগুইল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে গত ৩১ জানুয়ারি এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। প্রবল শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে ভর্তি হওয়া ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চিকিৎসকরা যে বস্তুটি উদ্ধার করেন, তা দেখে কার্যত হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। যুবকের মলদ্বার থেকে বের করা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার আট ইঞ্চি লম্বা একটি আর্টিলারি শেল বা কামানের গোলা।

বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি

গোলাটি উদ্ধারের পরপরই হাসপাতালে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে বস্তুটি কেবল পুরোনো কোনো সামগ্রী নয়, এটি একটি জীবন্ত বিস্ফোরক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট অংশটি দ্রুত খালি করে ফেলা হয় এবং চিকিৎসা প্রাঙ্গণটিকে ঘিরে ফেলা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ পরীক্ষার পর জানান, ব্রাস ও কপারের তৈরি ঐতিহাসিক এই শেলটি থেকে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকলেও, এটি যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারত।

রহস্যের জট ও সম্ভাব্য কারণ

অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি ধ্বংসাত্মক গোলা যুবকের শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে জনমনে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসি প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, কোনো বিতর্কিত ‘স্টান্ট’ বা মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন আচরণের কারণেই এমনটি ঘটে থাকতে পারে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রসিকিউটররা এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। যুবকের বিরুদ্ধে ‘ক্যাটাগরি এ মিউনিশন’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র অবৈধভাবে রাখার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আইনি পর্যালোচনা চলছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আতঙ্ক

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের যুদ্ধের একটি অবশিষ্টাংশ এভাবে আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইম্পেরিয়াল জার্মান বাহিনী পশ্চিম ফ্রন্টে প্রচুর গোলা নিক্ষেপ করেছিল, যেগুলোর অনেকই মাটির নিচে অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গিয়েছিল। সেই রেশ যে এভাবে বর্তমান প্রজন্মের জন্য বিপদ হয়ে সামনে আসবে, তা ছিল অভাবনীয়।

এক ঝলকে

ঘটনার স্থল: ফ্রান্সের তুলুজ শহরের রঁগুইল হাসপাতাল।
উদ্ধার হওয়া বস্তু: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আট ইঞ্চি লম্বা একটি আর্টিলারি শেল (কামানের গোলা)।
ঝুঁকির ধরন: গোলাটি ছিল জীবন্ত বা বিস্ফোরক সক্ষমতা সম্পন্ন।
তৎপরতা: বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও দমকল বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান অবস্থা: আক্রান্ত যুবক হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
আইনি জটিলতা: বিপজ্জনক যুদ্ধাস্ত্র রাখার অভিযোগে ওই যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *