“পার্টিটা উঠে গেছে”, শুভেন্দুর এই মন্তব্যে কেন বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা? – এবেলা

“পার্টিটা উঠে গেছে”, শুভেন্দুর এই মন্তব্যে কেন বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা এক নতুন মাত্রা নিল। দলের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক পর্যাপ্ত বিধায়কের অভাবে বাতিল করতে হয়েছে। রবিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি তথা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, কালীঘাটের এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বৈঠক বাতিলের নেপথ্য কারণ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করতে রবিবার কালীঘাটে দলের জয়ী ৮০ জন বিধায়ককে নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সাকুল্যে মাত্র ১৭ থেকে ২০ জন বিধায়ক সেখানে উপস্থিত হন। সিংহভাগ বিধায়কের এই গরহাজিরায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হন দলনেত্রী। উপস্থিত বিধায়করাও একে একে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। এই কারণেই বৈঠকটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল দলটি কার্যত রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান সরকারের কাজের কোনো অ্যাজেন্ডার মধ্যেও তারা নেই। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র সামান্য কয়েকজন উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, রাজ্যে কোনো আন্দোলন বা মিছিলের জেরে বিধায়করা আসতে পারেননি এমন নয়, বরং জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, যে ধরনের কাণ্ডকারখানা অতীতে হয়েছে, তাতে এ রাজ্যে তৃণমূলের আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়কের অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরমহলের সমন্বয়হীনতা বা অসন্তোষের ইঙ্গিত হতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী শিবিরের এমন আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে, যা আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *