‘পাহাড়ে পর্যটক হয়ে ঘুরতে আসব না, কাজ করতে আসব!’ কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কার্শিয়াং: “আগের মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে শুধু পর্যটক হয়ে ঘুরতে আসতেন। ভোট পান না বলে পাহাড়ের জন্য কিছুই করেননি। কিন্তু আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে বেড়াতে আসবে না, কাজ করতে আসবে।” মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের এক জনসভা থেকে এভাবেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণাও করলেন তিনি।
মঙ্গলবার পাহাড়বাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছে। কেন্দ্রের সমস্ত জনমুখী প্রকল্প এবার দ্রুত পাহাড়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “পাহাড় দেশের গর্ব, বাংলার সম্মান। আমাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকার পাহাড়ের মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে তোপ ও একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা:
এদিনের সভা থেকে জিটিএ (GTA)-র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, “জিটিএ যেভাবে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি করেছে, আমাদের সরকার তা করবে না। এবার থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।” এছাড়াও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলে (EFR) নিয়োগ, কালিম্পংয়ে নতুন মেডিক্যাল কলেজ এবং কার্শিয়াং হাসপাতালের আধুনিকীকরণের মতো একাধিক বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্যে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ ও কাটমানির দিন শেষ হয়েছে দাবি করে শুভেন্দু বলেন, “আমি যা বলব চিন্তাভাবনা করেই বলব। আর যা বলব, আমার সরকার সেই কাজ করেই দেখাবে।” পাহাড়ে চা বাগানগুলির উন্নতির পাশাপাশি তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলেরও ভোলবদল করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এদিনের হাইপ্রোফাইল সভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং সাংসদ রাজু বিস্তা।
জনসভা শেষে কার্শিয়াংয়ে আয়োজিত একটি সরকারি ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবা যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার জন্যই রাজ্য জুড়ে এই তিন দিনের বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। গত ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরের আজ ছিল দ্বিতীয় দিন।
