পূজোর আগে হাতখরচ তোলার অভিনব উপায়! বিডিও অফিসে ফর্ম পূরণ করছেন কলেজ পড়ুয়ারা – এবেলা

পূজোর আগে হাতখরচ তোলার অভিনব উপায়! বিডিও অফিসে ফর্ম পূরণ করছেন কলেজ পড়ুয়ারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চন্দ্রকোণা: সামনেই বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। আর উৎসবের মুখে নিজের হাতখরচটুকু নিজে তোলার আশায় এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন চন্দ্রকোণার একদল তরুণ। সরকারি শিবিরের চত্বরে বসে সাধারণ মানুষের ফর্ম পূরণ করে দিয়েই উপার্জনের নতুন নজির গড়ছেন কলেজ পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা।

ঘটনাটি চন্দ্রকোণা-২ বিডিও অফিস চত্বরের। সেখানে সম্প্রতি শুরু হয়েছে ‘সেবা সেতু’ অভিযান শিবির। সরকারি এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করাতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রচুর মানুষ। সেই সুযোগেই হাত খরচের দুটো পয়সা জোগাড় করতে রাইটিং বোর্ড আর কলম হাতে মেঝেতেই বসে পড়েছেন একদল কলেজ পড়ুয়া। বিএ পাস করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যুবক থেকে শুরু করে এমএ-র ছাত্র— তুষার রায়, গোলাম মুস্তাফা, মুস্তাক আলি খানরা হাত মিলিয়েছেন এই কাজে।

সরকারি শিবিরের সুবিধা নিতে আসা বয়স্ক ও সাধারণ মানুষদের নিখুঁতভাবে ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন এই তরুণেরা। কিন্তু কোনো নির্ধারিত ফি বা জোরজুলুম নেই। ফর্ম পূরণের বিনিময়ে যে যা টাকা দিচ্ছেন, তাতেই খুশি তাঁরা। এমনকি কেউ টাকা দিতে না পারলেও বিন্দুমাত্র আপত্তি না করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাজ করে দিচ্ছেন এই পড়ুয়ারা।

এই তরুণদের একজন চন্দ্রকোণার বড়মুইদা গ্রামের ২৯ বছর বয়সি তুষার রায়। ঘাটাল কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স পাশ করার পর আর পড়াশোনা এগোয়নি। সংসারের হাল ধরতে বর্তমানে গৃহশিক্ষকতা ও সামান্য চাষবাসের কাজে যুক্ত তিনি। তুষার জানান, “অনেক চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু কাজ মেলেনি। তাই শিবিরের সুযোগ নিয়ে একটু বাড়তি উপার্জনের চেষ্টা করছি। অনেকেই এই কাজের জন্য মোটা টাকা দাবি করে, কিন্তু আমরা কাউকে চাপ দিই না। যে যা দেয় তাতেই সন্তুষ্ট।”

সরকারি শিবিরে দালাল চক্রের দাপটের মাঝে এই যুবকদের সততা ও সাহায্য করার মানসিকতায় মুগ্ধ সাধারণ মানুষ। শিবিরে নাম নথিভুক্ত করাতে আসা ফিরোজা বিবি, শক্তিপদ দাসরা জানান, পড়ুয়ারা সব খুঁটিয়ে জেনে বুঝে যত্ন সহকারে ফর্মগুলো পূরণ করে দেওয়ায় তাঁদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন, অন্যদিকে স্বনির্ভরতার এই চেষ্টা তরুণদেরও দিচ্ছে পুজোয় মাথা উঁচু করে চলার আনন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *