পেন্টাগনে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্কে কি নতুন দিগন্ত খুলছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর চার দিনের মার্কিন সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সফরের শুরুতেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সদর দপ্তর পেন্টাগনে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এই সফরে মার্কিন শীর্ষ সামরিক আধিকারিকদের সঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মূলত দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও মেক ইন ইন্ডিয়া
এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন সহযোগিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র ও যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরি করার বিষয়ে যৌথ অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অত্যাধুনিক ‘স্ট্রাইকার’ সাঁজোয়া গাড়ি এবং ঘাতক ড্রোন সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে এই সফরে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফর ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আমেরিকার কৌশলগত লক্ষ্যের অংশ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাপ্রধানের এই সফরের ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে ওঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কেবল সীমান্ত সুরক্ষা নয়, বরং মহাকাশ ও সাইবার যুদ্ধের মতো ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও ভারতকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।
এক ঝলকে
- চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
- পেন্টাগনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ড্রোন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আদান-প্রদান নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে।
- ভারতে মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে যৌথ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা বেড়েছে।
- ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
