প্রকৃতির রুদ্ররোষে মাথায় হাত চাষিদের! ৮০০ বিঘা জমির ফসল ছারখার

টানা কয়েক দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের কৃষি খাতে বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর—বিশাল এলাকা জুড়ে ধান, পাট এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টির ফলে জমিতে জল জমে যাওয়ায় ফসলের গোড়া পচে নষ্ট হচ্ছে, যা কৃষকদের বার্ষিক আয়ের ওপর চরম আঘাত হেনেছে।
জেলাজুড়ে ক্ষতির খতিয়ান ও বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৪০০ বিঘা জমির পাট চাষ এবং ৭০০ থেকে ৮০০ বিঘা জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এছাড়া ৩০০ বিঘা জমির ধানও সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দাসপুর ও কেশপুর এলাকায় প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। কিন্তু একদিকে শ্রমিকের অভাব এবং অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়ায় বিঘার পর বিঘা ধানগাছ নুইয়ে পড়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় কাটা ধান জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আর্থিক সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
এই অকাল দুর্যোগে চাষিদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ কৃষকই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বা নিজের জমানো শেষ পুঁজি খরচ করে চাষাবাদ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ার ফলে সারা বছরের সংসার চালানো এবং দেনা শোধ করার বিষয়টি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ধান ও সবজি চাষে এই বিপুল ক্ষতির ফলে স্থানীয় বাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বা বিশেষ সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
