প্রেমিককে খুন করে বিরিয়ানি রান্না, মিক্সিতে আটকে থাকা দাঁতেই মিলল প্রমাণ!

প্রেমিককে খুন করে বিরিয়ানি রান্না, মিক্সিতে আটকে থাকা দাঁতেই মিলল প্রমাণ!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাত বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের পরিণতিতে প্রেমিকের অন্য নারীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত সহ্য করতে না পেরে এক মরক্কো বংশোদ্ভূত নারী যে পৈশাচিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন, তা অপরাধের ইতিহাসে বিরল। প্রতিশোধের অনলে জ্বলতে থাকা ওই নারী তার প্রেমিককে হত্যার পর তার শরীরের অংশ দিয়ে বিশেষ খাবার তৈরি করে প্রতিবেশীদের খাইয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিহিংসায় অন্ধ প্রেমিকা

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে তার প্রেমিকের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। দীর্ঘ সাত বছরে তিনি তার প্রেমিককে মানসিকভাবে সমর্থন করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও করেছেন। তবে সেই ব্যক্তি যখন অন্য এক মরক্কো বংশোদ্ভূত নারীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন অভিযুক্ত নারী তা মেনে নিতে পারেননি। দীর্ঘদিনের ত্যাগের বদলে এমন বিশ্বাসঘাতকতা তাকে চরম প্রতিশোধ নিতে প্ররোচিত করে। নিজের বাড়িতেই তিনি প্রেমিককে হত্যা করেন এবং অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য অত্যন্ত নিষ্ঠুর পথ বেছে নেন।

রহস্য ভেদের নেপথ্যে

নিখোঁজ ব্যক্তির ভাই যখন তার সন্ধানে ওই নারীর বাড়িতে পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি মোড় নেয়। অভিযুক্ত নারী শুরুতেই নিখোঁজ প্রেমিকের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন এবং ভাইয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাদের তাড়িয়ে দেন। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হলে নিখোঁজের পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক দল ওই নারীর রান্নাঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে থাকা ব্লেন্ডার কিংবা মিক্সির ভেতর পাওয়া যায় মানুষের একটি দাঁত। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় ওই দাঁত নিখোঁজ ব্যক্তির বলেই নিশ্চিত হওয়া যায়।

অপরাধের পৈশাচিক চিত্র

পুলিশের জেরার মুখে ওই নারী নিজের অপরাধ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়েছেন। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রেমিকের দেহ টুকরো টুকরো করেন। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি দেহের অংশগুলো ব্লেন্ডারে মিশিয়ে ফেলেন। সেই মাংস দিয়ে তিনি মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার তৈরি করেন এবং নিজের বাড়ির পাশে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের পরিবেশন করেন। অপরাধের এই ধরন সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আইনি জটিলতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

মরক্কোর নাগরিক ওই নারী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। জেরায় তিনি দাবি করেছেন যে, দীর্ঘ সময়ের আর্থিক ও মানসিক বিনিয়োগের বিনিময়ে পাওয়া প্রতারণা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন করে তুলেছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মামলার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নথিগুলো আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার পর আল আইনে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার স্থান: আল আইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
  • অভিযুক্ত: মরক্কো বংশোদ্ভূত এক প্রেমিকা।
  • হত্যার কারণ: দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কের পর প্রেমিকের অন্য নারীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত।
  • অপরাধের ধরন: প্রেমিককে খুন, দেহের টুকরো করে বিরিয়ানি সদৃশ খাবার তৈরি এবং প্রতিবেশীদের তা পরিবেশন।
  • যেভাবে ধরা পড়ল: রান্নাঘরের মিক্সার গ্রাইন্ডারে পাওয়া মানুষের দাঁত এবং সাপেক্ষে ডিএনএ টেস্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *