বঙ্গে শিল্পের মরা গাঙে ফিরবে জোয়ার, নীতি আয়োগের হাত ধরে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে কেন্দ্র – এবেলা

বঙ্গে শিল্পের মরা গাঙে ফিরবে জোয়ার, নীতি আয়োগের হাত ধরে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের শিল্প খরা কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগ। ভারতের উৎপাদনশীলতার তালিকায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়া এই রাজ্যকে পুনরায় শীর্ষ সারিতে ফিরিয়ে আনাই এখন নবগঠিত বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে নীতি আয়োগের নবনিযুক্ত উপাধ্যক্ষ তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ির নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়নের রূপরেখা বা ব্লুপ্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দেশের পূর্ব প্রান্তের রাজ্যগুলির মধ্যে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর

রাজ্যের নতুন শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে নীতি আয়োগ মূলত চারটি বৃহত্তর ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রথমত, ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগের আধুনিকীকরণ। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের পরিকাঠামো এবং পণ্যবাহী করিডর খতিয়ে দেখে রফতানি বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ক্ষেত্রে বড়সড় জোয়ার আনা। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং, রসায়ন, বস্ত্র এবং বৈদ্যুতিন শিল্পের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের খনিজ বলয়কে যুক্ত করে একটি সেমিকন্ডাক্টর করিডর গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয় ক্ষেত্রটি হলো ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সুবিধার সঠিক ব্যবহার। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নৈকট্য এবং বঙ্গোপসাগরের জ্বালানিপথের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভারী ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটানো। চতুর্থত, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে চলে যাওয়া শ্রমিকদের ঘরের মাঠেই কাজের সুযোগ করে দেওয়া এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি সল্টলেক ও নিউ টাউনের তথ্যপ্রযুক্তি হাব এবং প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হার থাকা কৃষিভিত্তিক শিল্পকেও এই রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

পতন ও সম্ভাবনার খতিয়ান

স্বাধীনতার সময় জিডিপির বিচারে ভারতের দ্বিতীয় ধনীতম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাপট, প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীকালে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জেরে রাজ্যে বৃহৎ পুঁজি বিনিয়োগের পরিবেশ ধাক্কা খায়। ফলে মেধার বহির্গমন এবং পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার সেই শূন্যতা পূরণে উদ্যোগী হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে জমি অধিগ্রহণের সংবেদনশীলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্বল পুর-পরিকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগুলির সঠিক প্রয়োগের ওপরেই এই শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *