বন্যা নিয়ে আর জল-রাজনীতি নয়, ডিভিসির সঙ্গে সংঘাত ভুলে সমন্বয়ের পথে নতুন রাজ্য সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসির সঙ্গে নবান্নের দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণে এক আমূল বদল এল। বর্ষা এলেই দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি-কে কাঠগড়ায় তোলার যে রাজনৈতিক রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, তা এবার অতীত হতে চলেছে। পূর্বতন সরকারের সংঘাতের পথ পরিহার করে এবার ডিভিসির সঙ্গে নিবিড় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার নিউটাউনে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘জল-রাজনীতি’ ও বন্যা তত্ত্ব নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্ষা আসলেই যেভাবে পূর্বতন সরকার ডিভিসিকে দায়ী করতো, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।
বন্যা রুখতে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রয়াস
অতীতে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করতেন যে, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই ডিভিসি জল ছাড়ে, যার জেরে দক্ষিণবঙ্গে প্লাবন দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিকে তিনি বহুবার ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে দাবি করেছিলেন এবং নদীগুলির পলিখনন না হওয়ার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করতেন। যদিও কেন্দ্র ও ডিভিসি বরাবরই সেই দাবি খারিজ করে এসেছে। রাজ্যে বর্তমানে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসায় দিল্লির সঙ্গে কলকাতার সেই সংঘাতের অবসান ঘটেছে। নতুন নবান্ন এখন দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।
আগাম প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সামনেই বর্ষার মরশুম থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের আগাম পরিকল্পনা তৈরিতে যৌথভাবে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্লাবন রুখতে রাজ্য সরকার এবং ডিভিসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা ও বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন বর্ষার দিকে নজর রেখে রাজ্যের সেচ দফতর ও ডিভিসি-সহ একাধিক জরুরি সরকারি বিভাগ এখন থেকেই একযোগে কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
