বর্ষার শুরুতেই অশনি সংকেত, এল নিনোর কোপে ১০ শতাংশ কম বৃষ্টির পূর্বাভাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে ধেয়ে আসছে আবহাওয়ার খলনায়ক ‘এল নিনো’। এর জেরে চলতি বছরের বর্ষায় দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে মৌসম ভবন (আইএমডি)। আগের অনুমানের চেয়েও পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে চলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার বর্ষাকালে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুন মাস থেকেই এই ঘাটতি স্পষ্ট হবে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করবে।
ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, পুড়বে দেশ
মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, জুন মাসেই এল নিনো ভারতে প্রবেশ করবে। শুরুর দিকে এটি কিছুটা দুর্বল থাকলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি এবং আগস্ট মাস থেকে এর শক্তি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এল নিনো তার পূর্ণ শক্তি ধারণ করবে। নাসার উপগ্রহ চিত্রেও প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের নীচে উষ্ণ জলস্তর তৈরি হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর ওপর।
কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কা ও খরার আশঙ্কা
বৃষ্টির এই বিপুল ঘাটতির কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমন ধানের চাষ বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে, যা দেশের খাদ্য সুরক্ষাকে সংকটে ফেলতে পারে। বৃষ্টি কম হওয়ায় জুনে গরমের তীব্রতা থাকবে অনেক বেশি। এর পরবর্তী ধাপে অনেক রাজ্যে তীব্র জলের সংকট এবং খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোতে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এল নিনোর জোড়া ফলায় নাগরিকদের জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত হবে। বাংলায় বাংলাদেশ লাগোয়া কিছু জেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, সামগ্রিকভাবে গোটা রাজ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
