বাংলায় পালাবদলের পরেই অশান্তি, হিংসা রুখতে এবার মুখ্যসচিবকে কড়া বার্তা শমীকের

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পালাবদল ঘটে গিয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করেছে। সোমবার রাত থেকেই কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে প্রশাসনকে কড়া হওয়ার বার্তা দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রঙ না দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্ব মূলত মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালের ওপর ন্যস্ত। শপথগ্রহণের আগে পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি মুখ্যসচিবের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ‘রঙ’ না দেখে পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিজেপি নেতার মতে, বাংলার মানুষ অশান্তিমুক্ত পরিবেশের আশাতেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন, তাই সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
দলীয় কর্মীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি
শুধুমাত্র প্রশাসনের ওপর দায় না চাপিয়ে নিজের দলের কর্মীদের জন্যও কড়া বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো বিজেপি কর্মী যদি এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হন, তবে তাঁকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। জয়ের আনন্দে মেতে উঠে কাউকে আঘাত করা বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি করা বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মঙ্গলবার বিধাননগরের পার্টি অফিসে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে হিংসা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তা নতুন সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরে কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।
