বাংলার মসনদে শুভেন্দু, বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নাম ঘোষণা অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার রাশ হাতে নিল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার কলকাতায় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
তৃণমূলের দুর্গ পতন ও শুভেন্দুর উত্থান
শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও মন্ত্রিসভার ‘নাম্বার টু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২০ সালে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলায় গেরুয়া শিবিরের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে তিনি নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন। গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজ্যজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরানোর পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে এই শীর্ষ পদের জন্য বেছে নিল বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির স্বপ্নপূরণ ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
শুভেন্দুর হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ’ (বিহার, বাংলা ও ওড়িশা) জয়ের স্বপ্ন সফল হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল অঞ্চলের গভীর সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিজেপিকে এই বিপুল জয়ে সহায়তা করেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজ্যের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রভাবশালী সাংগঠনিক কাঠামোর বিপরীতে বিজেপি সরকারকে স্থিতিশীল রাখা তাঁর জন্য অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি।
- বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা ও রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হলেন শুভেন্দু অধিকারী।
- কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে তৃণমূলের দুর্গ দখলে শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতাকে এই জয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
