বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদান ঘিরে তীব্র বিতর্ক, দলের ভাবমূর্তি নষ্টের আশঙ্কায় কর্মীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে কার্যত অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দিতে পারেন— এমন জল্পনা ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন। তবে এই সম্ভাব্য দলবদলকে কেন্দ্র করে এনসিপিআই-এর অন্দরেই চরম বিরোধ ও অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে বর্তমান নেতৃত্বের এই একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে প্রকাশ্যে এনেছে।
একতরফা সিদ্ধান্ত ও কর্মীদের ক্ষোভ
দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে-র অভিযোগ, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব একতরফাভাবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক সুবিধা বা বিশেষ স্বার্থ কাজ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার ফলে দলের মূল আদর্শচ্যুত হওয়ার ভয়ে শঙ্কিত সাধারণ কর্মীরা। তাঁদের ধারণা, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলীয় সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে সভাপতির স্বাক্ষর ও যৌথ সম্মতি প্রয়োজন হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
শর্তসাপেক্ষ দরজা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
২০২২ সালে মানুষের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এই দলের পথচলা শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। বিগত দিনে ত্রিপুরায় নানা রাজনৈতিক চাপ ও হামলার মুখোমুখি হয়েও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এই দলটির দরজা অবশ্য বিদ্রোহীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। শান্তনু দে শর্ত দিয়েছেন যে, দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে তাঁদের শর্ত মেনে নিলেই কেবল এই যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্তমানে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন দলের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে বর্তমান সরকারের ১৫ বছরের শাসনের সমালোচনা, অন্যদিকে মানুষের স্বার্থে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের অন্তর্ভুক্তি এনসিপিআই-কে সর্বভারতীয় স্তরে শক্তিশালী করবে নাকি দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ডেকে আনবে, তা আগামী সময়ই নির্ধারণ করবে।
