ভবানীপুরের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কার দিকে পাল্লা ভারি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী সকালে সবার নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের দিকে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল গণনা কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সত্ত্বেও গণনা শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্র চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি। এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যা এবারের নির্বাচনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এজেন্টদের প্রবেশ নিয়ে হট্টগোল
গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকা নিয়ে দুই শিবিরের এজেন্টদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। তৃণমূল পোলিং এজেন্টদের অভিযোগ, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি, ফাইল ও কলম নিয়ে ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অথচ বিজেপির এজেন্টরা অনায়াসেই সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। উত্তেজিত এক তৃণমূল প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। বিজেপি কর্মীদের সব অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, আর আমাদের পরিচয় জেনেও হেনস্তা করা হচ্ছে।” পাল্টা দাবিতে বিজেপি এজেন্টরা জানান, তৃণমূল কর্মীরা নিয়ম না মেনেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
প্রেস্টিজ ফাইটের চূড়ান্ত মুহূর্ত
ভবানীপুরের এই লড়াইকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ‘নন্দীগ্রাম’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এই দুই নেতার লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এ সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়ে এখন মমতার নিজের খাসতালুক ভবানীপুর। সকাল ৮টা থেকে কড়া নজরদারিতে পোস্টাল ব্যালট এবং সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএম গণনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে এই একটি কেন্দ্রের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। ভবানীপুরের এই উত্তাপ যেন প্রতিফলিত করছে পুরো রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক পালাবদল অথবা প্রত্যাবর্তনের লড়াইকে।
