ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা ও শুভেন্দু, নিজের গড়েই কি প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে মুখ্যমন্ত্রী? – এবেলা

ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা ও শুভেন্দু, নিজের গড়েই কি প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে মুখ্যমন্ত্রী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় আজ এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতার ভবানীপুর। বুধবার সকালে চক্রবেড়িয়া এলাকায় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনভয় নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দুই হেভিওয়েট নেতার দূরত্ব ছিল মাত্র ৫০ মিটার, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। সাধারণত ভোটের দিন নিজের কেন্দ্রে মমতাকে এতটা সক্রিয়ভাবে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায় না, যা এবারের নির্বাচনে পরিস্থিতির গুরুত্বকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

মুখোমুখি সংঘাত ও উত্তপ্ত রাজপথ

শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের পার্টি অফিসের ঠিক সামনে গাড়ি থেকে নামলে পরিস্থিতি রণংদেহি রূপ নেয়। শুভেন্দুর উপস্থিতিতে বিজেপি সমর্থকদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান এবং তৃণমূল কর্মীদের পাল্টা স্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী যখন দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে দীর্ঘক্ষণ পার্টি অফিসে বসেছিলেন, তখন শুভেন্দুর এই সরাসরি ‘ফেস অফ’ বা মুখোমুখি হওয়ার কৌশলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শাসকদলের দুর্গে সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কার্যত মানবশৃঙ্খল তৈরি করে দুই পক্ষকে আলাদা রাখে।

ভোটের সমীকরণ ও প্রভাব

সকাল থেকেই ভবানীপুরের বুথে বুথে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮ শতাংশের বেশি ভোটদান এবং তৃণমূল-বিজেপি উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ভোট লুটের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো কেন্দ্রে মমতার এই বাড়তি তৎপরতা এবং শুভেন্দুর আগ্রাসী মেজাজ প্রমাণ করছে যে, এই আসনটি আর শাসকদলের জন্য একতরফা ‘সেফ জোন’ নেই। শুভেন্দুর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ভোটারদের মেরুকরণে এবং বুথ স্তরের কর্মীদের সক্রিয়তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।
  • তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনেই বিশাল কনভয় নিয়ে শুভেন্দুর উপস্থিতি ঘিরে চরমে পৌঁছায় রাজনৈতিক উত্তেজনা।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মানবশৃঙ্খল।
  • সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮.৩৯ শতাংশ ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *