মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ২০ হাজার ভারতীয় নাবিক, উদ্ধারে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইল এনইউএসআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধ পরিস্থিতির মেঘ ঘনীভূত হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন অন্তত ২০ হাজার ভারতীয় নাবিক। দেশের অন্যতম প্রাচীন সামুদ্রিক ইউনিয়ন ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ সিফেয়ারার্স অফ ইন্ডিয়া’ (এনইউএসআই) এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে পণ্যবাহী জাহাজগুলো মাঝসমুদ্রে আটকে যেতে পারে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়বেন নাবিকরা।
প্রাণহানির ঝুঁকি ও ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত এই নাবিকরা বর্তমানে ড্রোন ও মিসাইল হামলার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছেন। প্রযুক্তিগতভাবে উন্মুক্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এনইউএসআই-এর সাধারণ সম্পাদক মিলিন্দ কান্দালগাঁওকর জানিয়েছেন, নাবিক ও তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। জাহাজের গতিবিধি এবং যুদ্ধের খবরের দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্বজনরা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ইউনিয়নের কাছে তাঁদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইছেন।
সুরক্ষা ও জরুরি প্রত্যাবর্তনের দাবি
মর্চেন্ট নেভির কর্মীরা মূলত সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিশ্ববাণিজ্য সচল রাখেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এসব ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা জাহাজ মালিক, বিমা কো ম্পা নি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিভক্ত থাকে। এই প্রেক্ষাপটে এনইউএসআই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে যাতে এই বিষয়টিকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে দেখা হয়। অবিলম্বে একটি কার্যকর ‘ইভাকুয়েশন প্রোটোকল’ বা জরুরি উদ্ধার নীতি প্রণয়ন করে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব
এই সংকটের ফলে শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্দর বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে নিয়মিত ক্রু পরিবর্তন ব্যাহত হচ্ছে। যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিকের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রপথে ভারতের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
