মাঝসমুদ্রে হান্টাভাইরাসের মারণ থাবা, ৩ পর্যটকের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ

মাঝসমুদ্রে হান্টাভাইরাসের মারণ থাবা, ৩ পর্যটকের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ

কলকাতা ৬ মে, ২০২৬। করোনা মহামারীর স্মৃতি ফিকে হতে না হতেই এবার নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিল ‘হান্টাভাইরাস’। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে বড় বড় ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরীগুলোতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান একটি ডাচ ক্রুজ শিপে (MV Hondius) এই ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই ৩ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

আক্রান্তের সংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি

নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী ওই প্রমোদতরীটি বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা ১৪৭ জন যাত্রী ও কর্মীর মধ্যে ৭ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি এবং জার্মানির এক নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও একজন ব্রিটিশ নাগরিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কা

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীর মল-মূত্র বা লালা থেকে ছড়ায়। তবে এই প্রমোদতরীর ঘটনায় বিজ্ঞানীরা আরও একটি আশঙ্কাজনক দিক খুঁজে পেয়েছেন। জাহাজটিতে কোনও ইঁদুরের অস্তিত্ব না থাকায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি হান্টাভাইরাসের ‘আন্দিজ স্ট্রেন’ (Andes Strain), যা অত্যন্ত বিরলভাবে হলেও মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। মৃত দম্পতির একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকা এই সংক্রমণের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কোভিডের থেকেও কি ভয়াবহ?

আপনার উদ্বেগের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মৃত্যুর হারের (Mortality Rate) নিরিখে হান্টাভাইরাস নিশ্চিতভাবেই কোভিডের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এটি করোনার মতো বাতাসের মাধ্যমে খুব দ্রুত জনপদে ছড়িয়ে পড়ে না। এর রিপ্রোডাকশন নম্বর বা ‘R-Value’ কোভিডের তুলনায় অত্যন্ত কম। অর্থাৎ, এই ভাইরাস মহামারীর রূপ নেওয়ার ক্ষমতা অনেক কম রাখে।

উপসর্গ ও সতর্কতা

হান্টাভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেকটা জ্বরের মতো হলেও খুব দ্রুত তা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রূপ নেয়।

  • তীব্র জ্বর ও পেশিতে ব্যথা।
  • বমি ভাব ও পেটে অস্বস্তি।
  • ফুসফুসে জল জমা এবং হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া।

আপাতত ওই প্রমোদতরীটিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের কেবিনের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ডাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞরা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করছেন যাতে সংক্রমণের সঠিক উৎস এবং ধরণ বোঝা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বললেও, প্রমোদতরী বা বড় জাহাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *