মিনিট খানেকের নিখুঁত অপারেশন! চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে কি ভিনরাজ্যের সুপারি কিলার? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অধরা আততায়ীরা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক দুই দিনের মাথায় মধ্যমগ্রামে নিজের ফ্ল্যাটের কাছেই নৃশংসভাবে খুন হন চন্দ্রনাথবাবু। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্তের কিনারা করতে আটটি বিশেষ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা, যা এই খুনের রহস্যভেদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পিত রেইকি ও নিঁখুত অপারেশন
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ছক কষেছিল আততায়ীরা। জানা গেছে, তাঁর গতিবিধির ওপর টানা ছয় দিন নজরদারি বা রেইকি চালানো হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন মাত্র এক মিনিটের এক ‘অপারেশন’-এ কাজ শেষ করে দুষ্কৃতীরা। প্রথমে একটি ছোট চারচাকার গাড়ি চন্দ্রনাথের এসইউভি-র পথ আটকায় এবং মুহূর্তের মধ্যে বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই কাজ করা হয়েছে, তাতে তদন্তকারীদের ধারণা এর পেছনে দক্ষ ‘সুপারি কিলার’দের হাত রয়েছে।
তদন্তের মূল অন্তরায় ও প্রভাব
পুলিশ বর্তমানে খুনিদের পালানোর পথ এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীরা সম্ভবত ভিনরাজ্যের এবং তারা বিমানবন্দর বা অন্য কোনো পথে রাজ্য ছেড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দমদম বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বর প্লেট ভুয়ো হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুভেন্দু অধিকারীর পরিবার ও বিজেপির দাবি অনুযায়ী এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, অন্যদিকে পুলিশ ব্যক্তিগত আক্রোশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। একজন অরাজনৈতিক আপ্ত সহায়ককে কেন টার্গেট করা হলো এবং এর নেপথ্যে কোন ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা প্রভাবশালী মাথা কাজ করছে, তা উদ্ঘাটন করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত এই রহস্যের সমাধান না হলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে।
