তৃণমূল জমানা এখন অতীত; ২৫শে বৈশাখেই নতুন সূর্যোদয় বিধানসভায়, তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি – এবেলা

তৃণমূল জমানা এখন অতীত; ২৫শে বৈশাখেই নতুন সূর্যোদয় বিধানসভায়, তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময়ের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটে শুরু হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই বিদায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামী শনিবার, ৯ মে অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখ শপথ নিতে চলেছে নতুন রাজ্য সরকার। আর এই ঐতিহাসিক পালাবদলকে সামনে রেখেই এখন উৎসবের আমেজ বিধানসভা চত্বরে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের বরণ করে নিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেজে উঠছে শতবর্ষী এই ইমারত।

স্মৃতির বিদায় ও নতুনের প্রস্তুতি

বিধানসভার অলিন্দে এখন পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার বাজেট বই বা নথিপত্র সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেমপ্লেটগুলো এখনও শোভা পেলেও, সেগুলো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ঝাড়পোচ থেকে শুরু করে ভবনের ছোটখাটো মেরামতির কাজ চলছে জোরকদমে। এক সময়ের কংগ্রেস শাসন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং পরবর্তী তৃণমূল জমানার বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই ভবনটি এবার গেরুয়া শিবিরের নতুন মন্ত্রিসভাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

অস্থায়ী সচিবালয় হিসেবে বিধানসভাই প্রথম পছন্দ

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা ভবন থেকেই রাজ্য পরিচালনার কাজ করবেন আগামী মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসের মধ্যে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিধানসভার ‘অ্যানক্স বিল্ডিং’ বা বর্ধিত অংশটিকেই আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সচিবালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। শনিবার শপথ গ্রহণের পর সোমবার থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী এখান থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন পর বাংলার শাসন ক্ষমতায় এই আমূল পরিবর্তন প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরণের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যেমন চন্দ্রনাথ রথের মতো রাজনৈতিক সহকর্মীদের হারানোর বিষাদ রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে নতুন সরকার গড়ার উদ্দীপনা। বিধানসভার এই ভোলবদল কেবল একটি ভবনের সংস্কার নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর পালাবদলেরই প্রতীক। মহাকরণ পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক ভবনটিই হতে চলেছে বাংলার ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *