মেয়ের বিচার চেয়েই বাজিমাত! ২০০০ ভোটে এগিয়ে ‘অভয়ার মা’ রত্না, জলহাটিতে ধসে পড়ল নির্মল ঘোষের দুর্গ

মেয়ের বিচার চেয়েই বাজিমাত! ২০০০ ভোটে এগিয়ে ‘অভয়ার মা’ রত্না, পানিহাটিতে ধসে পড়ল নির্মল ঘোষের দুর্গ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে দ্রুত এগোচ্ছে বিজেপি। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেরুয়া শিবির ইতিপূর্বেই ১৫০টি আসনে এগিয়ে থেকে রাজ্য বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার (১৪৫) অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল আপাতত ১১২টি আসনে এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান ঘোচাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।

মরণপণ লড়াইয়ে এগিয়ে অভয়ার মা

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি। সেখানে আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে লড়ছেন। গণনার শুরু থেকেই রত্না দেবনাথ প্রায় ২০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে থেকে বড় চমক দিয়েছেন। ভোট গণনার সকালে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, এই লড়াই তাঁর কাছে ক্ষমতার নয়, বরং মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই। দুর্নীতি ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তাঁর এই অবস্থান জলহাটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল ও ভবানীপুরের লড়াই

রাজ্যজুড়ে এবারের নির্বাচনে আরজি কর কাণ্ড এবং নারী সুরক্ষার বিষয়টি যে শাসকদলের বিরুদ্ধে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা গণনার প্রাথমিক হারেই স্পষ্ট। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও অস্বস্তিতে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ১৫০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে থাকায় শাসক শিবিরের অন্দরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপির প্রচার সাধারণ ভোটারদের একাংশকে তৃণমূল বিমুখ করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রশাসন ও পরবর্তী প্রভাব

নির্বাচনী ট্রেন্ডে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পেয়েই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, কোনোভাবেই ফলাফল পরবর্তী বিজয় মিছিল বা র্যালি করা যাবে না। ভোট গণনার ৯২ শতাংশ হার এবং প্রাথমিক এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলার মানুষ গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে এক বড়সড় পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে তৃণমূলের আধিপত্য খর্ব হয়ে এক নতুন শাসনব্যবস্থার সূচনা হতে পারে। ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর এই পরিবর্তনের প্রভাব রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও জননিরাপত্তার নীতিতে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *