রাজ্যজুড়ে শুরু হলো জনকল্যাণ শিবির, উপচে পড়া ভিড়ে কোন কোন সরকারি পরিষেবা মিলছে হাতের নাগালে! – এবেলা

রাজ্যজুড়ে শুরু হলো জনকল্যাণ শিবির, উপচে পড়া ভিড়ে কোন কোন সরকারি পরিষেবা মিলছে হাতের নাগালে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে শুরু হলো ‘জনকল্যাণ শিবির’। সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১০০টি শিবিরে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও তথ্য পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই শিবিরগুলোর মাধ্যমে মোট ৫৪টি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাও এই শিবির থেকে পাওয়া যাবে।

শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ও উপচে পড়া ভিড়

উদ্বোধনের প্রথম দিন সকাল থেকেই প্রতিটি জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত পূর্বতন সরকারের সময়ে আটকে থাকা প্রকল্পের টাকা পাওয়া এবং নতুন সরকারে কোন প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা জানতেই এই বিপুল জনসমাগম। সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের প্রকল্পগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সাধন করাই এই উদ্যোগের মূল কারণ। তবে প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড়ের কারণে আংশিক তথ্য নিয়ে একই মানুষ বারবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, যা কিছুটা প্রশাসনিক চাপ তৈরি করছে। এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এই শিবিরের মাধ্যমে গ্রামীণ ও নগর স্তরের বহু বকেয়া সমস্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান সম্ভব হবে।

কোন কোন পরিষেবা মিলছে এই শিবিরে

জনকল্যাণ শিবিরগুলোতে মূলত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা। রেশন কার্ডের ধরন (SPHH, PHH) অনুযায়ী আসাকর্মীদের মাধ্যমে বাড়িতে ফর্ম পৌঁছানোর কথা থাকলেও, যাঁরা পাননি তারা সরাসরি এই শিবির থেকে ফর্ম তুলে জমা দিতে পারছেন। তবে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিকদের জন্য রেশন কার্ডের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এছাড়া বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য খোলা হয়েছে আলাদা টেবিল। নতুন আবেদনকারীদের আবেদনের নিয়মাবলী যেমন এখানে বোঝানো হচ্ছে, তেমনই যারা ইতিমধ্যে কোনো একটি সরকারি ভাতা পাচ্ছেন, তাদের নতুন করে ফর্ম পূরণ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি ‘যুবসাথী’ এবং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অনলাইন ও অফলাইন আবেদন সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতেও আধিকারিকরা সরাসরি সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *