রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের আশা – এবেলা

রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের আশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বৈঠকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই ডিএ প্রাপ্তির আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক মহল।

ইতিমধ্যেই বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ইমেল পাঠিয়ে অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই চরম বৈষম্য দূর করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন বিজেপি সরকারের কাছে অন্তত ১২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির জোরালো দাবি পেশ করা হয়েছে। এই দাবি পূরণ হলে রাজ্যে ডিএ-এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে।

আন্দোলনের পটভূমি ও আইনি জটিলতা

কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে নেমে আন্দোলন চালিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান শাসক দলের ওপর কর্মচারীদের প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। অন্যদিকে, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও ডিএ প্রদানে টালবাহানা করেছিল বলে অভিযোগ। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কিছুটা সময় চেয়েছে এবং চলতি মাসের শেষেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাক্তন সরকারের ব্যর্থতা ও নতুন আশার আলো

সরকারি কর্মীদের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ হলো, চলতি বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেও, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কর্মচারীরা সেই বর্ধিত ভাতা পাননি। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার আজকের বৈঠকের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্তরের কর্মীরা।

নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বৈঠকে যদি ডিএ বৃদ্ধি বা সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ঘোষণা আসে, তবে তা রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমন করতে সাহায্য করবে। অন্যথায়, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার কোনো বিকল্প পথ খোঁজে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *