রেশন কার্ডের ই-কেওয়াইসি না করলেই মহাবিপদ, বন্ধ হতে পারে বিনামূল্যে চাল-ডাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে চাল, ডাল ও গমের মতো অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী পেতে দেশের কোটি কোটি মানুষের ভরসা রেশন কার্ড। তবে এবার এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে রেশন কার্ডের সঙ্গে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রকের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিচয় যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে উপভোক্তাদের বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো এবং ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ করার একাধিক অভিযোগ উঠছিল। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও রেশন তোলার মতো দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং রেশন বন্টন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতেই সরকার আধার তথ্যের সঙ্গে রেশন কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখার এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রকৃত ও বৈধ উপভোক্তাদের কাছেই যেন সরকারি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধুমাত্র পরিবারের প্রধান নয়, বরং রেশন কার্ড থাকা পরিবারের প্রতিটি সদস্যকেই আলাদাভাবে এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যাচাইকরণের সহজ পদ্ধতি ও সুবিধা
উপভোক্তাদের সুবিধার্থে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই ই-কেওয়াইসি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেরা রেশন’ (Mera Ration) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফেস অথেন্টিকেশন বা মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে খুব সহজেই এই কাজ করা সম্ভব। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল বা কেন্দ্রীয় এনএফএসএ (NFSA) পোর্টালেও এই সুবিধা উপলব্ধ। অন্যদিকে, অফলাইন পদ্ধতিতে নিকটস্থ রেশন ডিলারের কাছে গিয়ে বায়োমেট্রিক অর্থাৎ আঙুলের ছাপের মাধ্যমে অথবা সশরীরে সরকারি ক্যাম্পে গিয়েও এই যাচাইকরণ করা যাবে। এই প্রক্রিয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, যাচাইকরণের সময় নাম, বয়স বা ঠিকানায় কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও পাওয়া যায়, যা উপভোক্তাদের ভবিষ্যতের আইনি জটিলতা ও হয়রানি থেকে মুক্তি দেবে।
