সই জাল কাণ্ডে মুখোমুখি কুণাল ও অভিষেক, তৃণমূল সাংসদের বয়ানে মিলল তীব্র অসংগতি! – এবেলা

সই জাল কাণ্ডে মুখোমুখি কুণাল ও অভিষেক, তৃণমূল সাংসদের বয়ানে মিলল তীব্র অসংগতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে চাঞ্চল্যকর সই জাল কাণ্ডের তদন্তে এবার নাটকীয় মোড়। সিআইডি সদর দপ্তর ভবানী ভবনে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টার এই ম্যারাথন জেরায় সাংসদের দেওয়া বয়ানে একাধিক অসংগতি মেলায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে তদন্তের জট খুলতে তৃণমূল সাংসদকে ফের তলব করার জোরালো ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্যের এই তদন্তকারী সংস্থা।

মুখোমুখি জেরা ও বয়ান বদল

হাইকোর্টের কড়া ধমক এবং রক্ষাকবচ নিয়ে অবশেষে সিআইডির মুখোমুখি হতে বাধ্য হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে গেলেও, রবিবার দ্বিতীয় দফার জেরা পর্ব ছিল বেশ জটিল। এদিন ভবানী ভবনে একই সাথে তলব করা হয়েছিল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও। তদন্তকারীরা প্রথমে দু’জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। সূত্র মারফত জানা গেছে, একা থাকার সময় অভিষেক যে সমস্ত উত্তর দিয়েছিলেন, কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে সেই বয়ান বদলে ফেলেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই বয়ান বদলের ঘটনা ঘটায় আধিকারিকরা তাঁকে চেপে ধরলে তিনি কোনো সুদুত্তর দিতে পারেননি।

মামলার পাহাড় ও সম্ভাব্য প্রভাব

টানা তিনবার সিআইডির তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে যোগ দিলেও তাঁর এই বয়ান বদল তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। সিআইডি সূত্রে খবর, রবিবারের জেরার গতিপ্রকৃতি এবং অসন্তোষজনক উত্তরের কারণে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে খুব শীঘ্রই আবারও ডাকা হতে পারে। সই জাল কাণ্ডের পাশাপাশি বর্তমানে একাধিক আইনি জটিলতায় কার্যত টিফিননাবুদ অবস্থা এই হেভিওয়েট নেতার। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির মুখোমুখি হওয়া ছাড়াও, কয়লা পাচার কাণ্ড, আমফানের ত্রাণে ২৫০ কোটির দুর্নীতি মামলা এবং বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত একাধিক এফআইআরের চাপ রয়েছে তাঁর ওপর। এই পরিস্থিতিতে সই জাল কাণ্ডে সিআইডির এই কঠোর অবস্থান শাসক শিবিরের অন্দরে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *